কঠোর হিটলারের কোমল প্রেম!

হিটলারের সঙ্গে গেলি রাউবাল
মৃত্যুর পর পেরিয়েছে ৮১ বছর। তবুও থেমে নেই বির্তক। নির্মমতার উদাহরণ হিসেবে এখনও উচ্চারিত হয় তার নাম । কথা হচ্ছে জার্মান চ্যান্সেলর ও নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারকে নিয়ে। যার রাজনৈতিক বা যুদ্ধজীবনই কেবল নয়, এখনও অনেক মানুষের আগ্রহের বিষয় তার প্রেম কিংবা ব্যক্তি জীবন।
হিটলার সবসময়ই গর্ব করে বলতেন, কোনো ব্যক্তিগত জীবন নেই তার। প্রমাণ করতে চেষ্টা করতেন, নিজেকে উৎসর্গ করতে চান পুরো দেশের জন্য। তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। প্রতিটি সম্পর্কই শেষ হয়েছে দুঃখজনকভাবে।
আজ অ্যাডলফ হিটলারে ১৩৭ জন্মদিন। এই দিনে দেখা যাক হিটলারের প্রেমজীবন।
ঘরেই শুরু!
হিটলারের প্রথম সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তার ভাগ্নি গেলি রাউবালের সঙ্গে। মিউনিখে তার সঙ্গেই থাকতেন গেলি। তার ওপর অত্যন্ত কর্তৃত্বপরায়ণ ছিলেন হিটলার।
গেলি শুরুতে হিটলারের প্রতি আকৃষ্ট থাকলেও পরে তা ভিন্নরূপ নেয়। হিটলার তাকে বিয়ে করতে বাধা দেন। এটা মেনে নিতে পারেননি গেলি। একসময় হিটলার বাইরে থাকাকালে তারই রিভলবার দিয়ে আত্মহত্যা করেন এ তরুণী।
এই ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়ে নানা গুজব। হিটলারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও ওঠে, যা হুমকি হয়ে দাঁড়ায় নাৎসি পার্টির জন্য। গেলির মৃত্যু প্রভাবিত করে হিটলারের জীবনকে। নিজেকে শোকাতুর প্রকাশ করেন তিনি। যদিও অনেকের দাবি, রাজনৈতিক কারণে দেখিয়েছিলেন অধিক শোক।
বিদেশিনীর সঙ্গ
চ্যান্সেলর হওয়ার পর হিটলার আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন অনেকের কাছেই। তার ঘনিষ্ঠদের একজন হয়ে ওঠেন ইংরেজ সমাজসেবী ইউনিটি মিটফোর্ড।
মিউনিখে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করে হিটলারের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। পরে জায়গা পান তার বিশ্বস্ত বৃত্তে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কূটনৈতিক সফরে সঙ্গে থাকতেন হিটলারের। মিটফোর্ডের ইহুদিবিদ্বেষ হিটলারের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে তাকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভেঙে যায় তাদের সম্পর্ক। যুদ্ধ শুরুর পর হিটলারের দেওয়া পিস্তল নিজের মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করেন মিটফোর্ড। তবে গেলির মতো পরিণতি হয়নি তার, বেঁচে যান তিনি। পরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন হিটলার। গুলির আঘাতে মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি জানার পর শত্রুপক্ষের সীমান্ত পার করে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন হিটলার। সেখানে পরিবারের তত্ত্বাবধানে কাটান বাকি জীবন। ৯ বছর পর মস্তিষ্কে থাকা গুলির কারণে মেনিনজাইটিসে মারা যান মিটফোর্ড।
শেষসঙ্গী
হিটলারের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী ছিলেন ইভা ব্রাউন। পরবর্তীতে বিয়েও করেছিলেন তাকে। ভাগ্নি রাউবালের সঙ্গে থাকার সময়ই হিটলারের জীবনে আসেন ব্রাউন। তাদের পরিচয় করিয়ে দেন নাৎসি আলোকচিত্রী হাইনরিখ হফমান।
রাউবাল যেখানে হিটলারের অতিরিক্ত মনোযোগে বিরক্ত ছিলেন, সেখানে তা নিয়ে ঈর্ষান্বিত ছিলেন ব্রাউন। পরবর্তীতে ব্রাউনেরর প্রতি আকৃষ্ট হন হিটলার। তবে কেন তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন, তা নিয়ে ঐতিহাসিক ও সমসাময়িকদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ। পিটার লঙ্গারিচের ‘হিটলার : একটি জীবনী’ গ্রন্থে ধারণা করা হয়, অবিবাহিত থাকার কারণ নিয়ে কাছের মানুষদের কানাঘুষা বন্ধে ব্রাউনকে বেছে নেন তিনি। বাভারিয়ার অভিজাত নারী ও হিটলারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কারমেনসিটা ফন রেডে যুক্তি দেন, হিটলার মিটফোর্ডের মতো কারও চেয়ে ব্রাউনকে বেশি পছন্দ করতেন, কারণ ব্রাউনও ছিলেন তার মতোই নিম্নবিত্ত।
শিক্ষা ও রাজনীতিতে ব্রাউন ছিলেন অনগ্রর। এটিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল হিটলারের কাছে। তিনি এমন এক সঙ্গী চেয়েছিলেন, যিনি ঘর সামলাবেন, তবে হস্তক্ষেপ করবেন না রাজনীতিতে। ঠিক তাই করতেন ব্রাউন। যদিও সময় না দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াও হতো বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময়ের বাদানুবাদ শেষ হতো হিটলারের চিৎকার ও ব্রাউনের কান্না দিয়ে।
শেষদিকে সোভিয়েত সেনারা বার্লিনের দিকে এগিয়ে আসলে একটি বাঙ্কারে ব্রাউনকে বিয়ে করেন হিটলার। অল্প সময়ের মধ্যেই একসঙ্গে জীবন শেষ করেন তারা। তখন পালানোর সুযোগ পেয়েও তা নেননি ব্রাউন। হিটলারের সচিব ট্রাউডল ইয়ুঙ্গে দাবি করেন, হিটলারকে ছাড়া পৃথিবীতে বাঁচতে চাননি ব্রাউন।



