আগামীর সময়

ময়দা-চিনির বন্ধনে মানুষ: সিডনিতে রঙিন কেক বিপ্লব

ময়দা-চিনির বন্ধনে মানুষ: সিডনিতে রঙিন কেক বিপ্লব

সংগৃহীত ছবি

সিডনির ‘কেক পিকনিক’ এখন বিশ্বজুড়ে ভাইরাল এক আয়োজন। এটি ইতোমধ্যেই সান ফ্রান্সিসকো, নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে হাউসফুল হয়েছে। দুবাই, লন্ডন ও মেক্সিকো সিটির টিকিট পাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভবের মতো।

এবার এটি অনুষ্ঠিত হলো অস্ট্রেলিয়াতেও। এই মাসের শুরুতে মেলবোর্নের এক আয়োজনে একসঙ্গে এক হাজার ৬০০টি কেক ছিল।

এই আয়োজনের প্রতিষ্ঠাতা খণ্ডকালীন শখের বেকার এবং পূর্ণকালীন গুগল কর্মী এলিসা সুংগা হাসতে হাসতে জানান, ‘আমি কখনো ভাবিনি কেক নিয়ে ট্যুরে যেতে পারব। মানুষ গান নিয়ে ট্যুরে যায়, কিন্তু কেক নিয়ে? এটা যেন খুবই মজার আর আনন্দের ব্যাপার।’
শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ। দুই বছর আগে, ফিলিপাইনের বাগিও শহর থেকে ১২ বছর বয়সে সান ফ্রান্সিসকোতে যাওয়া সুংগা একটি ছোট সমাবেশের জন্য অনলাইনে বিভিন্ন মানুষকে আমন্ত্রণ জানান। শর্ত ছিল, সবাইকে একটি করে কেক আনতে হবে।

তিনি ভেবেছিলেন হয়তো ডজনখানেক মানুষ আসবে, তাই সাতটি কেক নিজেই নিয়ে যান। কিন্তু তার বিস্ময়ের সীমা ছিল না—প্রায় ২০০ মানুষ ১৮০টির বেশি কেক নিয়ে হাজির হয় এবং সব কেকই শেষ হয়ে যায়।
এই সাধারণ আমন্ত্রণই পরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

সুংগার ভাষ্য, ‘এটা অবাস্তব মনে হয়। আমি ভাবিনি বিশ্বজুড়ে এত মানুষ আমার মতো এত আগ্রহী হবে।’

সিডনির রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনে অনুষ্ঠিত শনিবারের আয়োজনে পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেয়। অনুষ্ঠানস্থলে দেখা যায় সবাই তাদের কেক নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাচাই করাচ্ছে—যেগুলো হতে হবে ২০ সেন্টিমিটার চওড়া এবং ৭.৫ সেন্টিমিটার উঁচু।



লাইনে দেখা গেছে ক্লান্ত চোখও—অনেকে রাত জেগে কেক বানিয়েছে।

৫৪ বছর বয়সী হিলারি লিন্ডগ্রেন জানান, ‘এটা ছিল দারুণ—ময়দা, চিনি ছড়িয়ে পুরো ঘর এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু খুব মজা হয়েছে।’

তার ভাষ্য, ‘এখন পৃথিবীতে এত নেতিবাচক ঘটনা ঘটছে, সেখানে এমন আয়োজন করা ভালো লাগার মতো।’

বিশাল টেবিলে অংশগ্রহণকারীরা তাদের কেক সাজিয়ে রাখেন। কেকগুলোর মধ্যে ছিল— এক মিটার উঁচু রাজহাঁস আকৃতির কেক, ফুলের তোড়া আকৃতির কাপকেক, কফি পেকান টর্ট, মিসো ক্যারামেলসহ স্পাইসড পেয়ার কেক, পার্সিয়ান বাকলাভা, এমনকি টমেটো, পেস্টো ও ফেটা দিয়ে তৈরি নোনতা ফোকাচ্চা কেকও।

সুংগা উল্লেখ করেন, ‘এত মিষ্টি কেকের মাঝে থাকলে আসলে নোনতা কিছু খেতে ইচ্ছা করে।’

শৈশবে তিনি খুব বেশি মিষ্টি খাবার খেতেন না—তাই কেকের প্রতি তার আকর্ষণ পরে তৈরি হয়েছে বলে জানান।

তার মতে, ‘এআই অনেক কিছু করতে পারে, কিন্তু এখনো কেক বানাতে পারে না। কেক পিকনিক মানুষকে বাইরে নিয়ে আসে, বাস্তব জীবনে একত্র করে।’

সব কেক সাজানোর পর ছবি তোলা, রেসিপি শেয়ার এবং প্রশংসা পর্বের পর অংশগ্রহণকারীরা দলে দলে কেক কেটে বড় পিজা বক্সে ভরে নেয়।

সিঙ্গাপুর থেকে আসা ইনফ্লুয়েন্সার ইউনিস লিমের মতে, ‘এটা খুব প্রাণবন্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক—এখানে কোনো বিচার নেই, শুধু মানুষ আর নানা ধরনের কেক।’

একজন অংশগ্রহণকারী জানান, ‘বড় শহরে এ ধরনের আয়োজন আরও হওয়া উচিত।’

৬ বছর বয়সী মাতিলদা হাসতে হাসতে বলেছে, ‘আমি ভালো খেতে পারি, কিন্তু বেকার নই।’

খাদ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কেক এমন একটি খাবার যা ভাগ করে খাওয়ার জন্যই তৈরি—এটাই এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ।

সুংগার মতে, ‘কনসার্টে সাধারণত একই বয়সের মানুষ থাকে, কিন্তু এখানে সব বয়সের মানুষ আসে—পরিবার, বন্ধু, তরুণ, বয়স্ক সবাই।’

‘আমি প্রযুক্তি ভালোবাসি, আবার সৃজনশীলতাও ভালোবাসি… আমি দুটোই চাই, সঙ্গে কেকও, আর সেটি খেতেও’, শেষে উল্লেখ করেন তিনি।

    শেয়ার করুন: