ট্রাম্পের ঘোষণা
ইইউর গাড়িতে শুল্ক বাড়বে ২৫ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা গাড়ি ও ট্রাকে ২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন করে তৈরি হয়েছে বাণিজ্য উত্তেজনা।
গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে কার্যকর হবে এই নতুন শুল্ক। তার অভিযোগ, আগের বাণিজ্য চুক্তি ঠিকভাবে মানছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
এর জবাবে ইউরোপীয় কমিশন জানাচ্ছে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপের পথই খোলা রাখবে তারা। ইইউ চুক্তির শর্ত মেনে চলছে যোগ করে আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে আরও পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাড়ি শিল্প ইউরোপের অর্থনীতির একটি বড় অংশ। তাই এই খাতে শুল্ক বাড়ানো তৈরি করবে বাড়তি চাপ।
এর আগে স্কটল্যান্ডে ট্রাম্পের টার্নবেরি গলফ কোর্সে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর মধ্যে। চুক্তিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল বেশিরভাগ ইউরোপীয় পণ্যে। এতে আগের ৩০ শতাংশ শুল্কের হুমকি থেকে কিছুটা স্বস্তি পায় ইইউ।
তবে পরে নানা কারণে দুই পক্ষের মধ্যে খারাপ হয় সম্পর্ক। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে বাড়ে উত্তেজনা। এরপর সাময়িকভাবে চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। পরে কিছু শর্ত যোগ করে আবার তা দেওয়া হয় অনুমোদন।
এরপরও ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম নিয়ে শুরু হয় নতুন বিরোধ। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ বড় ইউরোপীয় দেশগুলো।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, চুক্তি মানছে না ইইউ। তাই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানান ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি তৈরি করলে দিতে হবে না কোনো শুল্ক।
এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির প্রধান বার্ন্ড ল্যাঙ্গে জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বাসযোগ্য বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরছে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ। তার দাবি, বারবার চুক্তি ভেঙেছে যুক্তরাষ্ট্রই।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাইমন ইভেনেট বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনো ঘোষণাই চূড়ান্ত আইন নয়। তাই ইইউ আগে বিস্তারিত নিয়ম দেখবে, তারপর নেবে সিদ্ধান্ত।
এদিকে আগের কিছু শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। তবে গাড়ির ওপর নতুন শুল্ক ভিন্ন আইনের অধীনে হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের প্রভাব এতে পড়বে না।
সব মিলিয়ে নতুন এই ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বাণিজ্য সম্পর্ক।



