ট্রাম্পের দাবি, ইরান চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণার পর ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইরানের সম্মত হওয়া ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কী হবে- এমন প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব, ‘এই চুক্তির আওতায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। না হলে আমি মীমাংসা করতাম না।‘
চুক্তিটি ভেস্তে গেলে ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার পরিকল্পনায় আবার ফিরে যাবেন কি না- আরেক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।‘
তেহরানকে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আনতে বেইজিং সম্পৃক্ত ছিল বলে শোনা যাচ্ছে- এ প্রশ্নের বিপরীতে ট্রাম্পের উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ, ছিল বলে শুনছি।‘
এদিকে ট্রাম্পের মতো হোয়াইট হাউসও যুদ্ধবিরতিকে বিজয় হিসেবে দাবি করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়। যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী সম্ভব করেছে।
তিনি যোগ করেন, তিনি (ট্রাম্প) হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিয়েছেন।
লেভিট উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই বলেছিলেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চার থেকে ছয় সপ্তাহের অভিযান হবে এবং ৩৮ দিনের মধ্যেই আমাদের মূল সামরিক উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করেছি এবং তার চেয়েও বেশি অর্জিত হয়েছে।
‘আমাদের সামরিক বাহিনীর সাফল্য যে তারা সর্বোচ্চ দর কষাকষির সুযোগ তৈরি করেছে। যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দলকে আলোচনায় বসতে সক্ষম করেছে এবং যা এখন একটি কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ খুলে দিয়েছে,’ লিখেছেন তিনি।
এর আগে, ইরানের ওপর ‘বোমাবর্ষণ ও হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতে সম্মত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পূর্বঘোষিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প নিজেই।
এদিকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে তেহরানও।
সাময়িক যুদ্ধবিরতির পেছনে একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরান অবিলম্বে ‘সম্পূর্ণ এবং নিরাপদভাবে’ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেই কার্যকর থাকবে এই এই স্থগিতাদেশ।
তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধের ভিত্তিতে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ‘সম্পূর্ণ এবং নিরাপদভাবে’ খুলে দেওয়ায় সম্মতি সাপেক্ষে আমি রাজি হয়েছি ইরানে পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে। এটি হবে ‘উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি’।
ট্রাম্পের দাবি, হামলা স্থগিতের কারণ ইতোমধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সকল সামরিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে এবং বেশি পূরণ হয়েছে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বিষয়ক একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তির ব্যাপারে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।
মেহর নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবরটি নিশ্চিত করেছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির অনুমোদনে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিটি ইরানের জন্য বিজয় হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।



