সস্তায় ল্যাপটপ ও ফোন কেনার দিন কী ফুরিয়ে আসছে?

মাইক্রোসফট, স্যামসাং এবং ডেলের মতো শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বাড়াতে শুরু করেছে তাদের পণ্যের দাম। ছবি : সংগৃহীত।
বাজেট ফ্রেন্ডলি ল্যাপটপ, সস্তায় স্মার্টফোন কিংবা সুলভ মূল্যের গেম সামগ্রী কেনার দিন হয়তো শেষ হতে চলেছে। অত্যাধুনিক ফিচারের কারণে নয়, বরং কম্পিউটার যন্ত্রাংশের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এসব প্রযুক্তিপণ্য।
মাইক্রোসফট, স্যামসাং এবং ডেলের মতো শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বাড়াতে শুরু করেছে তাদের পণ্যের দাম। বাজার থেকে সরিয়ে নিচ্ছে সস্তা মডেলগুলো। ফলে ৪০০ পাউন্ডের মধ্যে ভালো মানের ফোন বা ল্যাপটপ খুঁজে পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
যন্ত্রাংশের এই সংকটের মূল কারণ মেমোরি চিপের ভয়াবহ সঙ্কট, যেটাকে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এখন বলা হচ্ছে ‘র্যামাগেডন’। তবে এই সংকটের পেছনে কোনো যুদ্ধ বা কাঁচামালের অভাব নয়, বরং এর জন্য দায়ী হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অস্বাভাবিক যাত্রা। এআই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য যে বিশাল ডাটা সেন্টার প্রয়োজন, সেখানে লাগছে প্রচুর পরিমাণে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মেমোরি চিপ।
বিশ্বে চিপ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় সবটাই এখন চলে যাচ্ছে এআই কোম্পানিগুলোর পকেটে। এর ফলে সাধারণ ল্যাপটপ বা ফোনের জন্য প্রয়োজনীয় মেমোরি চিপের দেখা দিচ্ছে সঙ্কট। আর সেই সুযোগে হু হু করে বাড়ছে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের মতে, মেমোরি চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার ফলে ২০২৬ সালে ল্যাপটপের দাম অন্তত ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মেমোরি চিপের ঘাটতির কারণে ল্যাপটপের পাশাপাশি বাড়ছে গ্রাফিক্স কার্ড এবং এসএসডির দামও।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সিনিয়র ডিরেক্টর অ্যানালিস্ট রঞ্জিত আটওয়াল বলেছেন, যন্ত্রাংশের দাম এতই বাড়ছে, নির্মাতাদের পক্ষে আর ল্যাপটপের দাম কম রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের আশঙ্কা, ২০২৮ সালের মধ্যে বাজার থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে ৫০০ ডলারের নিচের ল্যাপটপগুলো।
সংকট আঁচ করতে পেরে অনেক কোম্পানি আগেভাগেই যন্ত্রাংশ মজুদ করেছে। আবার কেউ কেউ বাড়িয়ে দিচ্ছে পণ্যের দাম। অ্যাপল বাড়িয়েছে তাদের জনপ্রিয় ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১০০ পাউন্ড। মাইক্রোসফট তাদের সারফেস কম্পিউটারের সস্তা মডেলগুলো বন্ধ করে দাম বাড়িয়েছে ১৭০-২০০ পাউন্ড পর্যন্ত।
গেম কনসোলের বাজারেও একই দশা। সনি গত ২ এপ্রিল পিএস-৫ এর দাম বাড়িয়েছে ৯০ পাউন্ড। মেটা বাড়িয়েছে তাদের কোয়েস্ট থ্রিএস ভিআর হেডসেটের দাম। আর স্যামসাং বাড়িয়েছে তাদের সর্বশেষ স্মার্টফোনগুলোর দাম অন্তত ৫০ পাউন্ড।
স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রনের মতো বড় চিপ নির্মাতারা চেষ্টা করছেন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর। কিন্তু সেই কারখানাগুলো ২০২৭ সালের আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এসকে হাইনিক্স ধারণা করছে, এই সংকট চলতে পারে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।






