ট্রাম্প-মার্জ দ্বন্দ্ব চরমে
জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ। এর জেরে জার্মানি থেকে ৫ হাজার সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
ফ্রেডরিখ মার্জ সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, ‘সফর এবং সমঝোতার ক্ষেত্রে ইরানিদের কাছে অপদস্থ হয়েছেন মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা।’ এই মন্তব্যের ঠিক পরদিনই সৈন্য প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত জার্মানিতে ৩৬ হাজারের বেশি সক্রিয় মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বার্লিনে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতি আমাদের এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্র— উভয় পক্ষেরই স্বার্থের অনুকূল।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এ সিদ্ধান্ত তাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। ইউরোপ ও জার্মানি থেকে ওয়াশিংটন যে সৈন্য কমিয়ে আনবে তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার সোশ্যালে জার্মান চ্যান্সেলরের তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, মার্জ তার কাজে ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন। অভিবাসন, জ্বালানিসহ সব ক্ষেত্রেই সংকটে আছেন তিনি।
ট্রাম্প শুধু জার্মানি নয়, ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ন্যাটো জোটের দীর্ঘদিনের সমালোচক ট্রাম্প মূলত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার অভিযানে ইউরোপীয় মিত্রদের সহযোগিতা না পেয়ে ক্ষুব্ধ। ইতালি ও স্পেনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইতালি আমাদের কোনো কাজেই আসেনি। স্পেনও ইরান যুদ্ধে আমাদের সঙ্গে জঘন্য আচরণ করেছে। সবাই শুধু বলে তারা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চায় না।’
অন্যদিকে, চ্যান্সেলর মার্জ শিক্ষার্থীদের এক সভায় বলেছিলেন, ‘মার্কিনদের কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল নেই। ইরানিরা আলোচনার টেবিলে খুব দক্ষ অথবা তারা আলোচনা ছাড়াই মার্কিনদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত ঘুরিয়ে ফল ছাড়াই বিদায় দিতে ওস্তাদ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের এই কৌশলের কারণে পুরো মার্কিন জাতি অপমানিত হচ্ছে।
এর জবাবে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মার্জ মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ঠিক আছে। তিনি আসলে কী বলছেন তা তিনি নিজেও জানেন না। জার্মানি যে অর্থনৈতিকভাবে এত খারাপ করছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই!’
ইউরোপের মধ্যে জার্মানিতেই সবচেয়ে বেশি মার্কিন সৈন্য মোতায়েন থাকে (৩৬ হাজারের বেশি)। এর বাইরে ইতালিতে ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার সৈন্য রয়েছে। ২০২০ সালেও ট্রাম্প ১২ হাজার সৈন্য সরানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে প্রস্তাবটি তখন আটকে দিয়েছিল কংগ্রেস। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা বাতিল করেছিলেন। সে সময় জার্মানির প্রতিরক্ষা বাজেট কম থাকায় বেজার ছিলেন ট্রাম্প।
তবে মার্জ সরকারের অধীনে জার্মানি তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েছে। ২০২৭ সালে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় ১০৫.৮ বিলিয়ন ইউরো বা মোট জিডিপির ৩.১ শতাংশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মূলত রাজনৈতিক ও কৌশলগত ইগোর লড়াই হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে রোমানিয়া থেকেও একই কারণে সৈন্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ট্রাম্প।



