বেজোস ঘুম থেকে উঠে পড়েন পত্রিকা, পান করেন কফি

সংগৃহীত ছবি
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমাদের অধিকাংশের হাত চলে যায় স্মার্টফোনে। ফেসবুকের নোটিফিকেশন্স বা ইমেইল চেক না করলে যেন শুরু হতেই চায় না দিনটা। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস হাঁটেন ঠিক উল্টো পথে।
যেখানে অ্যাপলের টিম কুক বা পেপসিকোর ইন্দ্রা নুয়ির মতো সিইওরা তাদের কঠোর ও ব্যস্ত সকালের রুটিন নিয়ে গর্ব করেন, সেখানে বেজোস তার সকালের প্রথম সময়টুকু ব্যয় করেন একদম অলসভাবে বা নিজের মতো।
২০১৮ সালে ইকোনমিক ক্লাব অব ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বক্তৃতায় বেজোস তার সকালের অভ্যাসের কথা জানান। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম একঘণ্টা তিনি তাকান না কোনো ধরনের স্ক্রিন বা স্মার্টফোনের দিকে। এই সময়টাতে তিনি পড়েন সংবাদপত্র, পান করেন কফি এবং নাস্তা করেন পরিবারের সঙ্গে।
বেজোসের মতে, এই ধীরগতির সকাল কেবল জীবনকে উপভোগ করতেই সাহায্য করে না, বরং এটি শক্তি জোগায় সারাদিনের কাজের। বাড়ায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।
বেজোসের এই অভ্যাসের পক্ষে কথা বলছে আধুনিক নিউরোসায়েন্সও। স্ট্যানফোর্ড লাইফস্টাইল মেডিসিন প্রোগ্রামের বিশেষজ্ঞ মারিস লোয়েফলার জানান, সকালে বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করা যদি অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে মস্তিষ্কের ওপর।
স্ট্যানফোর্ড বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন জেফ বেজোসের এই এক ঘণ্টার নিয়ম বা নো-স্ক্রিন মর্নিং অনুসরণের।
তারা ফোনের বদলে সকালের প্রথম একঘণ্টা যে কাজগুলো করার কথা বলছেন, সেগুলো হলো: ব্যায়াম করা, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা, পুষ্টিকর নাস্তা তৈরি করা, ধ্যান বা মেডিটেশন করা, গান শোনা, বই পড়া বা ডায়েরি লেখা এবং বাইরে গিয়ে সকালের আলো গায়ে লাগানো।



