ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলে অভিযানের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে থাকা এক হাজার পাউন্ড সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দের জন্য সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
এ বিষয়ে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ট্রাম্প এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক। তবে, এই ধরনের অভিযান মার্কিন সেনাদের জন্য যে বিপদ ডেকে আনতে পারে, তাও তিনি বিবেচনায় রাখছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ট্রাম্প এবং তার কিছু মিত্র ব্যক্তিগতভাবে একমত হয়েছেন যে, একটি সুনির্দিষ্ট অভিযানের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম জব্দ করা সম্ভব হবে।
তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান যুদ্ধের সময়কালকে উল্লেখযোগ্যভাবে দীর্ঘায়িত করবে না।
তবে, একাধিক সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন যে, ইউরেনিয়াম উত্তোলনের যেকোনো অভিযান অত্যন্ত জটিল হবে এবং এতে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকবে।
এই মাসের শুরুতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এই ধরনের অভিযানের সম্ভাব্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
গ্রোসি বলেছেন, ইউরেনিয়াম সিলিন্ডারের ভেতরে গ্যাস আকারে সংরক্ষিত থাকে। যা পরিবহন করা খুব কঠিন।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং ইরানের সঙ্গে হওয়া পরমাণু সংক্রান্ত আলোচনায় একজন আলোচক রিচার্ড নেফিউ বলেছেন, এগুলো নিরাপদে পরিবহনের জন্য বিশেষ কন্টেইনারে রাখতে হবে এবং এতে একাধিক ট্রাক লাগতে পারে।
‘এছাড়া ভুয়া সিলিন্ডার, ফাঁদ ও মাইন প্রকৌশলীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে’, যোগ করেন তিনি।
এই গবেষকের মতে, ইউরেনিয়াম সরাতে বিশেষ যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হবে। সম্ভবত হামলার ঝুঁকির মধ্যেই এসব যন্ত্রপাতি আকাশপথে আনতে হতে পারে। এরপর পারমাণবিক স্থাপনাকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি এবং অস্থায়ী বিমানঘাঁটি স্থাপন করতে হবে।
এদিকে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন ইরানকে স্বেচ্ছায় ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি করানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যেকোনো মূল্যে ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র বিদেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়েছে।
১৯৯৪ সালে কাজাখস্তান থেকে ‘প্রজেক্ট স্যাফায়ার’ অভিযানে ইউরেনিয়াম সরানো হয় এবং ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে জর্জিয়ার একটি রিঅ্যাক্টর থেকে উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সরিয়ে স্কটল্যান্ডে নেয়।
দুটি ক্ষেত্রেই ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করা হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবে।

