যুক্তরাষ্ট্রে চীনা টেলিকম সরঞ্জাম আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধের পথে

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তৈরি সরঞ্জাম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন এই প্রস্তাব দেয়।
এর আগে ২০২২ সালে এসব প্রতিষ্ঠানের নতুন মডেলের অনুমোদন বাতিল করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চীনা প্রযুক্তিপণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ।
২০২১ সালে এফসিসি হুয়াওয়ে, জেডটিই, হাইটেরা, হিকভিশন ও দাহুয়া প্রস্তুতকৃত টেলিযোগাযোগ ও ভিডিও নজরদারি সরঞ্জামকে ‘কভার্ড লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করে। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো রাখা হয়।
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এসব কোম্পানির নতুন মডেলের পণ্য আমদানি বা বিক্রির অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। শুক্রবারের প্রস্তাবে এফসিসি জানতে চেয়েছে, ২০২২ সালের আগে অনুমোদন পাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যগুলোর আমদানিও বন্ধ করা উচিত কি না।
সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে মনে করছে, পূর্বে অনুমোদিত সরঞ্জামের আমদানি ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এবং হিকভিশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এফসিসি জানিয়েছে, নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলেও ক্রয় করা সরঞ্জাম ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। তবে নতুন ডিভাইস দ্রুত আমদানির প্রবণতা ঠেকাতে চূড়ান্ত আদেশ জারির পরপরই আমদানি নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
অতীতে এফসিসি চীনা প্রযুক্তির বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে গত ডিসেম্বরে সব ধরনের নতুন চীনা ড্রোন আমদানি নিষিদ্ধ অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে ইন্টারনেট সংযোগের জন্য ব্যবহৃত চীনা নির্মিত নতুন রাউটার মডেলের আমদানিও বন্ধ করা হয়েছে।
গত অক্টোবরে এফসিসি এফসিসি সর্বসম্মত ভোটে কভার্ড লিস্টে থাকা কোম্পানিগুলোর যন্ত্রাংশযুক্ত নতুন ডিভাইসের অনুমোদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে পূর্বে অনুমোদিত সরঞ্জামও নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সংস্থাকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হিকভিশন গত ডিসেম্বর মাসে মামলা করে। মামলায় তারা অভিযোগ করে, এফসিসি তাদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। যথাযথ আইনি বা প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি ছাড়াই পূর্বের অনুমোদন বাতিল করতে চায়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত হিকভিশনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এতে ২০২২ সালের এফসিসির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে কোম্পানিটির নতুন ভিডিও নজরদারি ও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামের অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল।
এর আগেও এফসিসি জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ উল্লেখ করে কিছু চীনা কোম্পানিকে যুক্তরাষ্ট্রে টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সম্প্রতি চীনা সরকারের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগারের স্বীকৃতিও প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স



