জ্বালানি সংকটে ফ্লাইট কমাতে পারবে যুক্তরাজ্যের এয়ারলাইনগুলো

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকায় গ্রীষ্ম মৌসুমে ফ্লাইট বাতিল বা একীভূত করার অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি লক্ষ্য রাখা হয়েছে যাত্রীদের শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি কমানোতে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন আইনের আওতায় এয়ারলাইনসগুলো আগেভাগেই ফ্লাইটের সময়সূচি সমন্বয় করতে পারবে। এর ফলে গ্রীষ্মের ছুটিতে ভ্রমণকারী লাখো যাত্রীকে হঠাৎ পড়তে হবে না বাতিলের সমস্যায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এয়ারলাইনসগুলো ফেরত দিতে পারবে নিজেদের বরাদ্দ পাওয়া টেকঅফ ও ল্যান্ডিং স্লট। এতে পরবর্তী মৌসুমে ওই স্লট ব্যবহারের অধিকার হারাবে না তারা। সাধারণত ফ্লাইট বাতিল করলে ঝুঁকি থাকে স্লট হারানোর। এ কারণে ভবিষ্যতের স্লট ধরে রাখতে অনেকসময় চালানো হয় অর্ধেক খালি উড়োজাহাজ।
ব্রিটিশ মন্ত্রীদের ভাষ্য, একই দিনে একই গন্তব্যে একাধিক ফ্লাইট থাকলে একীভূত করা যাবে সেগুলো। আবার যাত্রীসংখ্যা কম হলে জ্বালানি অপচয় এড়াতে ফ্লাইট বাতিলের সুযোগও থাকবে।
তবে ফ্লাইট বাতিল করতে হবে অন্তত দুই সপ্তাহ আগে, যাতে যাত্রীদের স্থানান্তর করা যায় কাছাকাছি সময়ের বিকল্প ফ্লাইটে।
যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রধান নির্বাহী রব বিশটন উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরের স্লট সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল হলে এয়ারলাইনসগুলো আরও নমনীয়ভাবে পরিচালনা করতে পারবে। এতে ফ্লাইট বাতিলের ক্ষেত্রে আগেভাগে জানানো সম্ভব হবে যাত্রীদের।
গত বৃহস্পতিবার পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারের সঙ্গে হিথ্রো ও গ্যাটউইক বিমানবন্দর এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ভার্জিন আটলান্টিক ও ইজিজেটের প্রতিনিধিদের বৈঠকে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মার্চের শুরু থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। এতে ইউরোপ জুড়ে বেড়েছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপে মজুত রয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহের জেট ফুয়েল। যুক্তরাজ্য তাদের ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের প্রায় ৬৫ শতাংশ আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
হেইডি আলেকজান্ডার মন্তব্য করেন, বর্তমানে সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা নেই। তবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে ভবিষ্যতের জন্য। তিনি তুলে ধরেন, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেবে যাত্রীদের। গ্রীষ্মে কমাবে ভোগান্তি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন আইন এয়ারলাইনসগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সুযোগ দেবে ফ্লাইট সমন্বয়ের। যা যাত্রী ও ব্যবসা, সহায়ক হবে উভয়ের জন্য।



