চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের দাবি এবার জাতীয় সংসদে

সড়কের আন্দোলন পেরিয়ে এবার জাতীয় সংসদে উঠেছে প্রায় ১০ হাজার চাকরিচ্যুত ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবি
সড়কের আন্দোলন পেরিয়ে এবার জাতীয় সংসদে উঠেছে প্রায় ১০ হাজার চাকরিচ্যুত ব্যাংকারের পুনর্বহালের দাবি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দেশের ছয়টি বেসরকারি ব্যাংক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বিপুল কর্মীকে, যা দেখা হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে।
দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন, কারাবরণ এবং উচ্চ আদালতে রিট করার পরও সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি এখন আলোচিত হচ্ছে সংসদে। চট্টগ্রামের পটিয়া ও চন্দনাইশসহ দক্ষিণাঞ্চলের বহু পরিবার এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরাসরি।
সম্প্রতি সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন বিএনপির দুই সংসদ সদস্য এনামুল হক ও জসিম উদ্দিন চৌধুরী। তারা বলেছিলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তার দায়ে হাজার হাজার শিক্ষিত কর্মীকে একযোগে চাকরিচ্যুত করা গ্রহণযোগ্য নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে তার দায় কার—এ প্রশ্নও তোলেন তারা।
পরদিন একই ইস্যু সংসদে তোলেন জহিরুল ইসলাম। জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ‘বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগ ও শ্রম আদালতে বিচারাধীন। তাই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়, তবে তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রতিবেদন অনুযায়ী।’
চাকরিচ্যুতদের অভিযোগ, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে আসার পর যেসব কর্মী ব্যাংকগুলোতে যোগ দেন, তাদেরই টার্গেট করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। ছয়টি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি।
চাকরি হারানো ব্যাংকারদের একজন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, কোনো নিয়ম না মেনেই পরীক্ষার নামে প্রহসন করে তাদের দেওয়া হয়েছে বাদ। একইভাবে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আরিফ জানালেন, চাকরিতে ভালো পারফরম্যান্স ও পদোন্নতি পাওয়ার পরও তাকে হারাতে হয়েছে চাকরি।
চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা ইতোমধ্যে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে করেছেন বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছেও দিয়েছেন স্মারকলিপি।
তাদের দাবি,নতুন যোগ্য পর্ষদ গঠন, বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, চাকরিচ্যুতদের স্বপদে পুনর্বহাল এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
সংসদে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিষয়টি এখন গুরুত্ব পেয়েছে জাতীয়ভাবে। আন্দোলনকারীরা উচ্চ আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন নতুন করে আশাবাদী হয়ে।




