ক্যাম্পে প্রতিপক্ষের গুলিতে প্রাণ গেল রোহিঙ্গা নেতার

প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত এআরও কমান্ডার কেফায়েত উল্লাহ হালিম
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্রগোষ্ঠীর গুলিতে এক রোহিঙ্গা নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও দুজন রোহিঙ্গা।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের তরজার ব্রিজ এলাকায়।
নিহত নেতার নাম কেফায়েত উল্লাহ হালিম (৪৫)। তিনি আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও) নামের একটি বাহিনীর কমান্ডার এবং বালুখালী আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্প-৭-এর এফ-২ ব্লকের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন একই আশ্রয়শিবিরের এ-৪ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও জি ব্লকের নুর মোহাম্মদ (৩২)। তারাও এআরওর সদস্য বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কেফায়েত উল্লাহসহ তিনজন মোটরসাইকেলে আরেক ক্যাম্প থেকে নিজেদের ক্যাম্পে ফিরছিলেন। পথে তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এতে তিনজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতারা জানান, আশ্রয়শিবিরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা গুলি চালান। কেফায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে এআরও আশ্রয়শিবিরে আরসাবিরোধী তৎপরতায় যুক্ত ছিল। এর আগে একবার গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নৌকার মাঠ পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে আশ্রয়শিবিরের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেফায়েত উল্লাহ মারা যান।
উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, হামলার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



