সিলেটে শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে সরকার

ছবিঃ আগামীর সময়
শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে সরকার, এমন আশার কথা শোনালেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি আশ্বস্ত করেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষাখাতে জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়ানোর। দেশের শিক্ষাখাত উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার তা-ই করবে সরকার।
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন শিক্ষামন্ত্রী। সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় সভাটি।
মন্ত্রী জানান, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু সেই আর্থিক শক্তি পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না শিক্ষার মানোন্নয়নে। কিছুটা রসিকতা করেই মন্ত্রী বললেন, শুধু ডলার পাউন্ডে নয় শিক্ষার মানেও এগিয়ে যেতে হবে সিলেটকে।
দেশে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুসংগঠিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন মন্ত্রী। বললেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তা কোনোভাবেই বাইরে থাকতে পারে না সরকারি নীতিমালার।
তার মতে, ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মাধ্যম ও মাদ্রাসার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে। ইতিমধ্যে সব ধারার শিক্ষার্থীর ন্যূনতম মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে অর্থনৈতিক সক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তার দাবি, শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করলেই দূর হবে না বৈষম্য, নিশ্চিত করতে হবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এলো নকল ও কোচিং সেন্টারও। তিনি জানালেন, আইনের আওতায় আসছে কোচিং সেন্টার। শিক্ষকরা ব্যর্থ হওয়ার কারণেই কোচিং সেন্টারে যায় শিক্ষার্থীরা। ভালো করে পড়ান না বলেই নকল করে শিক্ষার্থীরা।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রমুখ।



