বৃষ্টিতে ভিজেই বিশ্ব মাতালো বিটিএস

একই ফ্রেমে বিটিএস সদস্যরা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবার মঞ্চে ফিরলো বিশ্ব কাঁপানো দক্ষিণ কোরিয়ান বয় ব্যান্ড বিটিএস। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াং স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এই ‘আরিরাং’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের উদ্বোধনী রাতটি ছিল যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি নাটকীয়। বৃষ্টির বাগড়া সত্ত্বেও সাত সদস্যের তেজ আর হাজার হাজার ভক্তের চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
খোলা আকাশের নিচে আয়োজন হওয়ায় শুরু থেকেই ভারী বৃষ্টিপাত বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। কিন্তু বিটিএস সদস্যরা সেটাকেই মজার ছলে গ্রহণ করেন। স্টেজ জুড়ে তখন পানির স্তর, আর তার মধ্যেই পারফর্ম করছিলেন তারা। ব্যান্ড সদস্য ভি তো এক পর্যায়ে ভেজা স্টেজে শুয়ে পড়ে সাঁতার কাটার ভঙ্গি করেন। ভক্তদের উদ্দেশে সুগা হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘ভেন্যুটা তো আস্ত একটা ওয়াটার পার্ক হয়ে গেছে।’ যদিও জিমিন কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে জানান যে বৃষ্টির কারণে তিনি কিছুটা ‘স্ট্রেসড’ ছিলেন, তবে ভক্তদের পাগল করা উন্মাদনা দেখে সব ক্লান্তি ভুলে যান তিনি।
ব্যান্ড লিডার আরএম এর পায়ের চোট নিয়ে ভক্তদের মধ্যে বেশ উদ্বেগ ছিল। তিন সপ্তাহ আগে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো নাচতে পারবেন না। গত মাসের একটি শো-তে তাকে বসে পারফর্ম করতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার নিজের শহর গোয়াং এ তিনি কোনো ছাড় দেননি। ব্যথার তোয়াক্কা না করে পুরো সময় পায়ে দাঁড়িয়ে গান গেয়েছেন। ভক্তদের আস্বস্ত করে তিনি জানান, ‘ডাক্তার অনুমতি দিয়েছেন বলেই আমি আজ এখানে। আপনাদের জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে চাই।’ তবে সাবধানতা হিসেবে কিছু অংশে তাকে সিংহাসনের মতো একটি বিশেষ আসনে করে স্টেডিয়াম ঘোরানো হয়।
এবারের কনসার্টে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে তাদের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’। কোরিয়ান লোকসংগীতের মেলোডির সঙ্গে আধুনিক পপ ও র্যাপের এক অসাধারণ ফিউশন এই অ্যালবামে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কনসার্টের সেটলিস্টে ২৩টি গান রাখা হয়েছিল। ‘মাইক ড্রপ’, ‘রান বিটিএস’ এবং ‘হুলিগান’ এর মতো ধামাকা গানগুলোর সময় আগুনের ফোয়ারা ও লেজার লাইটে পুরো স্টেডিয়াম এক মায়াবী রূপ নেয়। এবার তাদের সিগনেচার নাচের মুদ্রার চেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখার দিকেই তারা বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই ট্যুর নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বিটিএস এর এই ৮৫ দিনের সফর আয়ের দিক থেকে টেইলর সুইফটের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। উদ্বোধনী রাতেই প্রায় ৪০ লাখ মানুষ অনলাইনে টাকা দিয়ে টিকিট কেটে অনুষ্ঠানটি দেখেছেন। শুধুমাত্র অনলাইনেই আয় হয়েছে প্রায় ১৬৮ মিলিয়ন ডলার।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সাত সদস্যই বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ চার বছর পর সামরিক দায়িত্ব পালন শেষ করে আবার একসঙ্গে মঞ্চে দাঁড়াতে পেরে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জিন এবং জাং কুক ভক্তদের উদ্দেশে বলেছেন, এটি তাদের জীবনের একটি অবিস্মরণীয় রাত। সবশেষে নতুন গান ‘ইনটু দ্য সান’ গেয়ে তারা রাতের সমাপ্তি টানেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের ৩৪টি শহরে মোট ৮৫টি শো করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। জুলাই মাসে লন্ডনের টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে তাদের পরবর্তী বড় ধামাকা দেখার অপেক্ষায় আছেন ইউরোপের ভক্তরা।



