আগামীর সময়

ইফতারের পর আলসেমি নয়

ইফতারের পর আলসেমি নয়

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময়টুকু মনে এক প্রকার প্রশান্তি এনে দেয়। খাবার সামনে এলেই শরীর-মন দুটোই হালকা হয়ে যায়। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ইফতারের পর শরীরে আলসেমি ভর করে। কাজ করতে ইচ্ছে করে না, মাথা ঝিমঝিম করে, আবার কেউ কেউ বিছানায় শুয়ে পড়তে চান।

হঠাৎ বেশি খাওয়া, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরের পরিবর্তন সব মিলিয়েই এই ক্লান্তি বা অলস ভাব তৈরি হয়। সামান্য কিছু অভ্যাস বদলালেই ইফতারের পরও শরীরকে চনমনে রাখা সম্ভব।

বুঝেশুনে খাবার খান

অনেকেই সারাদিন না খেয়ে থাকার পর একসঙ্গে অনেক খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে হজমের ওপর চাপ পড়ে এবং শরীর ভারী লাগে। তাই ইফতার শুরু করুন খেজুর ও পানি দিয়ে। এরপর হালকা কিছু খাবার খান। একটু বিরতি নিয়ে ধীরে ধীরে বাকি খাবার খেলে শরীরের ওপর চাপ কম পড়ে এবং আলসেমিও লাগে না।

ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন
ইফতারের টেবিলে সাধারণত ভাজাপোড়া খাবারই বেশি থাকে। এসব খাবার সুস্বাদু হলেও অতিরিক্ত খেলে শরীর দ্রুত ভারী হয়ে যায়। এ সময় রক্তপ্রবাহের একটি বড় অংশ হজমের কাজে ব্যস্ত থাকে, ফলে শরীরে ঝিমুনি আসে। তাই ভাজাপোড়া কমিয়ে ফল, সালাদ, ছোলা বা ডালজাতীয় সহজপাচ্য খাবার রাখলে শরীর তুলনামূলক হালকা থাকে।

হাঁটাহাঁটি করুন
ইফতারের পরই অনেকেই সোফায় বা বিছানায় শুয়ে পড়েন। এতে শরীর আরও বেশি অবসন্ন হয়ে পড়ে। বরং ইফতারের কিছুক্ষণ পর হালকা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। বাসার ভেতর বা বারান্দায় পাঁচ-দশ মিনিট হাঁটলেই শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ক্লান্তি কমে গিয়ে শরীর মন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ।

পর্যাপ্ত পানি পান
সারাদিন পানি না খাওয়ার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি না খেলে মাথা ভারী লাগা বা ক্লান্তি বাড়ে। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টায় ধীরে ধীরে কয়েক গ্লাস পানি পান করুন। এতে শরীর সতেজ থাকে।

পরিমিত খাবার
ইফতারের সময় অনেক খাবার সামনে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়। কিন্তু অতিরিক্ত খাবার শরীরকে অলস করে দেয়। তাই খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। পরিমিত খাবার খেলে শরীর হালকা থাকবে এবং কাজ করার শক্তিও থাকবে।

হালকা কাজ করুন
ইফতারের পর পুরোপুরি স্থির হয়ে বসে থাকলে ঘুমভাব আরও বাড়ে। তাই হালকা কিছু কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে রাখুন। ঘর গোছানো, সেহেরির জন্য রান্নার সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখা, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা বা কিছুক্ষণ বই পড়া। এতে মন ও শরীর সক্রিয় থাকে।

পর্দায় বেশি সময় থাকবেন না
ইফতারের পর অনেকেই মোবাইল বা টেলিভিশনের সামনে বসে দীর্ঘ সময় কাটান। এতে শরীর স্থির হয়ে যায় এবং চোখ-মাথা দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই কিছুটা সময় পর্দা থেকে দূরে থেকে অন্য কিছু করার চেষ্টা করুন।

রাতের খাবারের নির্দিষ্ট সময়

ইফতারের পর যদি খুব বেশি খাওয়া হয়ে যায়, তাহলে রাতের খাবারের সময় শরীর আরও ভারি হয়ে যায়। তাই ইফতারে পরিমিত খাবার খেলে পরে স্বাভাবিকভাবে রাতের খাবার খাওয়া যায় এবং শরীরেও অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

ঘুমের সময় ঠিক রাখা
ইফতারের পরের আলসেমি অনেক সময় রাতের ঘুমের অনিয়মের কারণেও বাড়তে পারে। যদি রাত জেগে থাকেন এবং ঠিকমতো বিশ্রাম না হয়, তাহলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এজন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

মনকে চাঙা রাখুন
শরীরের পাশাপাশি মনের অবস্থাও অনেক সময় আলসেমির কারণ হয়ে ওঠে। ইফতারের পর পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কিছু সময় গল্প করা, প্রিয় কোনো কাজ করা বা হালকা হাঁটা এসব ছোট ছোট বিষয়ই মনকে চাঙা রাখতে সাহায্য করে।

    শেয়ার করুন: