ঘুম থেকে উঠার কতক্ষণ পর ফোন ধরা উচিত?

ফাইল ছবি
আমরা অনেকে সকালে উঠে পানি খাই, শরীরচর্চা করি। আবার ঘুম চোখে মোবাইল ফোন হাতে নেওয়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়। চোখ কচলাতে কচলাতে নোটিফিকেশন চেক করতে থাকি। আড়মোড়া ভাঙার আগে মোবাইল ঘাঁটার অভ্যাস শরীর ও মনে তৈরি করে ব্যাপক চাপ। বর্তমান যুগে অধিকাংশ সময়ই রাতে ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে ঘুমিয়ে পড়ি আমরা। সচল, অর্ধ সচল মোবাইল থাকে বালিশের পাশেই। অভ্যাসটি দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে আমাদের।
মস্তিষ্কে চাপ
নিউরনের কার্যকলাপের ওপর ভিত্তি করে আমাদের মস্তিষ্ক দিনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন মোডে থাকে। যেমন মস্তিষ্কের ডেল্টা, আলফা, বিটা। এগুলো মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের ছন্দ বা তরঙ্গ। আমাদের চিন্তা, অনুভূতি এবং কাজের ওপর ভিত্তি করে এই তরঙ্গগুলোর গতি বা ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তিত হয়।
ঘুমানোর সময় আমাদের মস্তিষ্ক বিশ্রাম নেয়। তখন মস্তিষ্ক থাকে ডেল্টা মোডে। ঘুম ভাঙার সময়ে থিটা মোডে পৌঁছে যায়। অর্থাৎ কিছুটা আচ্ছন্নভাব কাজ করে। এরপর আলফা মোড আসে, যখন ঘুম ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্ক তখনও ভালোভাবে সক্রিয় হয় না। মস্তিষ্ক যে স্তরে সক্রিয় হয়, তাকে বিটা মোড বলে। কিন্তু আপনি যদি চোখ খোলা মাত্রই মোবাইল ঘাঁটা শুরু করেন, এলোপাতাড়ি তথ্য দেখতে থাকেন, তখনই মস্তিষ্ককে হঠাৎ করে সক্রিয় হতে হয়। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ডেল্টা মোড থেকে সরাসরি বিটা মোডে পৌঁছে যায়। এই প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
মানসিক চাপ বাড়ে
ঘুম থেকে উঠার সময় শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে। সেই সময় আবার যদি ফোন ঘাঁটেন, মস্তিষ্কের ওপর আরও চাপ বাড়ে। মোবাইলের পর্দায় উঠে আসা বিভিন্ন কনটেন্ট, মেসেজ, ইমেল, তাৎক্ষণিকভাবে চাপ বাড়ায়। এর জেরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা আরও বাড়ে। মানসিক ক্লান্তিও বাড়ে। তৈরি হয় অ্যাংজাইটি। বাড়ায় মানসিক চাপ।
চোখের ক্ষতি
ঘুম চোখে মোবাইল ঘাঁটলে চোখের ক্ষতি হয়। মোবাইল ফোনের নীল আলোক রশ্মি চোখে প্রভাব ফেলে। এর জেরে অনেক সময়ই ড্রাই আইজ অর্থাৎ চোখ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
কর্মক্ষেত্রে অবসাদ
ঘুম চোখে মোবাইল ঘাঁটার অভ্যাস পুরো দিন নষ্ট করে দিতে পারে। এই অভ্যাস আপনার মনোনিবেশ ক্ষমতার ওপর ব্যাঘাত ঘটায়। কাজে উৎসাহ পাওয়া যায় না। পাশাপাশি সামাজিকমাধ্যমে দেখা নেতিবাচক মন্তব্য বা সমালোচনা এমনভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে সারাদিন ওই সব বিষয়ই মাথায় চলতে থাকে।
ঘুমে ব্যাঘাত
স্মার্টফোনের নীল আলো মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। এই হরমোন আমাদের স্লিপিং সাইকেল, অর্থাৎ ঘুমচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মোবাইল ঘাঁটলে যেমন এই হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং চোখের পাতায় ঘুম আসে না, তেমনই ঘুম থেকে উঠে মোবাইল ঘাঁটলেও এই হরমোনের নিঃসরণে বাধা তৈরি হতে পারে।
শরীরে বাড়তে থাকে অযাচিত উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা। বাড়ে অনিদ্রার সমস্যা। সুতরাং ঘুম থেকে উঠার অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর মোবাইলে হাত দেওয়া উচিত। এই বিরতি আমাদের মস্তিষ্ক স্থিতিশীল হতে সাহায্য করে।

