ঈদের আগে কোলাজেন সমৃদ্ধ ১২টি খাবার

আসন্ন ঈদুল ফিতরে নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখাতে আমরা কত কিছুই না করি! দামি সিরাম, টোনার কিংবা ময়েশ্চারাইজার, এমন হরেক রকম প্রসাধনী কেনায় কমতি থাকে না কারোরই। কিন্তু ত্বকের আসল সৌন্দর্য আর টানটান ভাব ভেতর থেকে আসে কোলাজেন নামক এক বিশেষ প্রোটিনের মাধ্যমে।
আমাদের শরীরের প্রোটিনের প্রায় ৩০ শতাংশই হলো এই কোলাজেন, যা ত্বক, হাড় ও পেশিকে মজবুত ও নমনীয় রাখে। ঈদ উৎসবের আগে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও তারুণ্য ধরে রাখতে ডায়েটে যোগ করতে পারেন কোলাজেন সমৃদ্ধ এই ১২টি খাবার:
বোন ব্রথ
কোলাজেনের আসল ‘পাওয়ার হাউজ’ বলা হয় একে। গরু, খাসি কিংবা মুরগির হাড় দীর্ঘ সময় পানিতে ফুটিয়ে এই সুরুয়া তৈরি করা হয়। রান্নার সময় হাড়ের কোলাজেন সরাসরি পানিতে মিশে যায়। এটি আইস কিউব করে ফ্রিজে রেখে পরে স্যুপ, স্টু বা পোলাওতে ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বক টানটান করার পাশাপাশি নখ ও চুলকেও মজবুত করে।
মাছ
মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন-ই শরীরে কোলাজেন তৈরিতে দারুণ কার্যকর। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফলে সহজে বলিরেখা পড়ে না। এবারের ইফতারে বা সেহরিতে মাছ গ্রিল করে বা অল্প বাটারে ভেজে খেলে প্রোটিনের চাহিদাও পূরণ হবে, আবার ত্বকও ভালো থাকবে।
চিকেন
মুরগির মাংস, বিশেষ করে বুকের অংশ (চিকেন ব্রেস্ট) প্রোটিনের চমৎকার উৎস। এর চামড়া ও টিস্যুতে প্রচুর কোলাজেন থাকে। তবে বাজারের ফার্মের মুরগির চেয়ে প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বড় হওয়া দেশি মুরগি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ডিম
ডিমকে বলা হয় ‘সুপার ফুড’। এর সাদা অংশে থাকা ‘প্রোলাইন’ নামক অ্যামাইনো এসিড কোলাজেন উৎপাদনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। আবার কুসুমের ভিটামিন-এ ও ডি-ও ত্বকের জন্য জরুরি। ভাজা চপের বদলে সেদ্ধ বা পোচ করা ডিম খাওয়ার অভ্যাস করুন।
বেরি জাতীয় ফল
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি কিংবা রাস্পবেরিতে থাকে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এগুলো কোলাজেন বুস্ট করতে সাহায্য করে। বিকেলের নাস্তায় বা ইফতারের পর দইয়ের সাথে এক মুঠো বেরি মিশিয়ে ফ্রুট সালাদ বানিয়ে নিতে পারেন।
সবুজ শাক
পালং শাক, পুঁই শাক বা বাঁধাকপির মতো সবুজ সবজিতে থাকা ক্লোরোফিল ত্বকের কোষ মেরামতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে এসব শাকের জুড়ি নেই।
সাইট্রাস সমৃদ্ধ ফল
লেবু, কমলা, মাল্টা বা আমলকীর ভিটামিন-সি কোলাজেন গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। কোলাজেন প্রোটিনের আঁশ গঠনেও ভিটামিন-সি অপরিহার্য। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত একটি টক জাতীয় ফল রাখা জরুরি।
টমেটো
টমেটোতে থাকা ‘লাইকোপিন’ নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এটি ত্বকের কোলাজেন সহজে ভেঙে যেতে দেয় না, ফলে রোদে পোড়া ভাব কমে। সালাদ, স্যুপ কিংবা পাস্তায় নিয়মিত টমেটো রাখুন।
রসুন
রান্নার স্বাদ বাড়ানো এই মশলাটিতে আছে সালফার, যা কোলাজেন সংশ্লেষণে সাহায্য করে। এছাড়া রসুনের বিশেষ কিছু উপাদান কোলাজেন ক্ষয় রোধে কাজ করে। সালাদ ড্রেসিং কিংবা প্রতিদিনের খাবারে রসুনের উপস্থিতি ত্বকের জন্য উপকারী।
পেঁপে
পেঁপেতে থাকা ‘পাপায়িন’ এনজাইম এবং ভিটামিন-সি প্রোটিন হজমে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে ত্বকের বলিরেখা দূর করতে ভূমিকা রাখে। স্মুদি, সালাদ কিংবা সবজি হিসেবে পেঁপে খেতে পারেন।
বাদাম ও বীজ
চিয়া বীজ, কাঠবাদাম, চিনা বাদাম বা সূর্যমুখীর বীজে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন-ই। এগুলো ত্বককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে বাঁচায় এবং কোলাজেন তৈরিতে ও তা ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিকেলের নাস্তায় এক মুঠো বাদাম হতে পারে আপনার সৌন্দর্যের রহস্য।
গ্রিন টি
ইদানীং গ্রিন টি বা ‘মাচা’ বেশ জনপ্রিয়। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখে। এবার ঈদের আগে ইফতারের পর দুধ-চায়ের বদলে এক কাপ গ্রিন টি পানের অভ্যাস করেই দেখুন।

