আগামীর সময়

‛পর্যালোচনায়’ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন কবি মোহন রায়হান

‛পর্যালোচনায়’ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন কবি মোহন রায়হান

ফাইল ছবি

সমালোচনার মুখে কবি মোহন রায়হানকে ‛বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিতে সোমবার সকাল ১১টায় একাডেমিতে তাকে পুরস্কার দেয়া হবে- বলা আছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।


সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে শনিবার দুপুরে পাঠানো হয়েছে এ  বিজ্ঞপ্তি। পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত এখনও নেননি বলে সংবাদমাধ্যমকে জানালেন কবি।


বিজ্ঞপ্তিতে আগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা, ‛কবি মোহন রায়হানকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়া নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা হয়। এ কারণে তাৎক্ষণিক স্থগিত করা হয় তার পুরস্কার।’ 


তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে হয় জরুরি সভা। পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে কবিকে ২০২৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে- বলছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।


মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫-এর জন্য ৯ বিশিষ্টজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন।


পূর্ববর্তী ঘোষণা অনুযায়ী পুরস্কার নিতে উপস্থিত হন কবি মোহন রায়হানও। তখন জানতে পারেন, বাতিল হয়েছে তার পুরস্কার। এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন কবি। শুরু হয় সমালোচনা।


সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সে সময় বলেছিলেন, মোহন রায়হানকে ‛আগের সরকারের সময়’ মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। এখন ঠিক কী অভিযোগে পুরস্কার স্থগিতের সিদ্ধান্ত- এমন প্রশ্নে তার জবাব, ‛বিষয়টি যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলা যাবে না।’


একই বক্তব্য ছিল সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের। 


পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে ফেসবুকে পোস্ট দেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান। তার দাবি, ৪১ বছর আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ পুরস্কার বাতিল করিয়েছেন।


গীতিকার ও সমাজ বিশ্লেষক শহীদুল্লাহ ফরায়েজীর মতে, ‘একজন কবিকে স্বীকৃতি দেয়া হয় সাহিত্যিক অনন্যতা, ভাষার সৃজনশীলতা ও মানবিক চেতনার প্রতি প্রভাবের জন্য- তার রাজনৈতিক পরিচয় বা আনুগত্যের জন্য নয়। সাহিত্যিক সম্মান কোনো মতাদর্শগত আনুগত্যের পুরস্কার হতে পারে না। রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের মর্যাদা হরণ করতে পারে না।’

মোহন রায়হানকে তিনি দেখেন সংগ্রামী কবি হিসেবে। এমন একজন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমন আচরণ খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক- মত তার।


‘পরপর দুবছর পুরস্কার ঘোষণা করার পর প্রত্যাহার বা স্থগিত করে লেখক-কবিদের অপমান করা হয়েছে’- উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল। বলেছেন, এ ধারার সূচনা আওয়ামী লীগ আমলে অধ্যাপক নিয়াজ জামানকে পুরস্কার দেয়া নিয়ে।


তার ক্ষোভ, ‘গতবছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও একই ঘটনা ঘটেছে। এবারও ঘটল। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এ বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দু’জন মন্ত্রী একই ধরনের মন্তব্য করলেও এ কথা বলেননি যে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো সিদ্ধান্তে মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ করা উচিত কি না...


‘...মন্ত্রণালয় তো হস্তক্ষেপ করেছেই, বাংলা একাডেমিও হস্তক্ষেপ করতে দিয়েছে। একাডেমির মহাপরিচালক এবং নির্বাহী পরিষদ একাডেমির স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর দায় তারাও এড়াতে পারেন না।’

পুরস্কার স্থগিতের ঘটনাকে অন্যায়, অপমান ও অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তার মতে, ‘সাহিত্য ও ব্যক্তির মতাদর্শ আলাদা’।


স্থগিতের দুই দিন পর এবার এলো কবিকে পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত। 


এক সংবাদমাধ্যমকে মোহন রায়হান জানালেন, সকালে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের ফোনে পান এ খবর। তবে পুরস্কার গ্রহণের ব্যাপারে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন বিকালে।

    শেয়ার করুন: