দোলযাত্রা-রোজা: বইমেলায় সম্প্রীতির মেলবন্ধন

ফাইল ছবি
রমনা কালি মন্দিরের গেটে দোলযাত্রার ভিড়। আবির মেখে ছবি তুলছিলেন প্রশান্তি সাহা ও তার বন্ধুরা। প্রশান্তি বললেন— ‘মন্দিরে এসেছিলাম দোলযাত্রায় অংশ নিতে। পাশেই তো বইমেলা। এজন্য বইমেলায়ও ঘুরেছি এবং ছবি তুলেছি।’
অন্যদিকে সারা দিন রোজা রেখে বিকাল ৪টায় বইমেলায় এসেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ। পরে মেলার মাঠেই বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা।
প্রায় ২৫ বছর ধরে বইমেলায় আসার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রাসেল আহমেদ বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। তখন তো প্রায় প্রতিদিনই মেলায় আসা হতো। প্রথম মেলায় এসেছিলাম ২৫ বছর আগে। কিন্তু বইমেলা কখনো রোজার সময় হতে দেখিনি। এবার রোজায় বইমেলা হচ্ছে। বন্ধুদের নিয়ে মেলায় একসঙ্গে ইফতার করার স্মৃতি জমলো।
মঙ্গলবার ছিল অমর একুশে বইমেলার ৬ষ্ঠ দিন। মেলা চলে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এ মেলায় নতুন বই জমা পড়েছে ৬৫টি এ তথ্য জানিয়েছে মেলার জনসংযোগ বিভাগ।
এদিন সারা দেশে উদ্যাপিত হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব। এ উৎসবটি ‘দোলযাত্রা’, ‘দোল পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত। বইমেলায় দোল উৎসবের আমেজও দেখা যায়। পাশাপাশি বিকেল গড়াতেই বিভিন্ন স্টলে চলে ইফতার নিয়ে ব্যস্ততা।
মেলায় তাজউদ্দীন আহমদ স্মরণে এদিন বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় তাজউদ্দীনের জন্মশতবর্ষ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিউদ্দিন আহমদ। অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন— সাজ্জাদ সিদ্দিকী।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মহিউদ্দিন আহমদ বলছিলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে তাজউদ্দীন আহমদ খুবই প্রাসঙ্গিক একটি নাম। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪০-এর দশকে ঢাকায় মুসলিম লীগের কর্মী ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে একপর্যায়ে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।’
ইতিহাস আমাদের এমন কিছু সময় ও ঘটনার মুখোমুখি করে, যেটাকে আমরা বলি ক্রান্তিকাল। তাজউদ্দীন আহমদ এমনই একটি সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন ১৯৭১ সালে। ওই সময়টি তার এবং সমগ্র জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাজউদ্দীন আহমদ রাজনীতিতে যতদিন সক্রিয় ছিলেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন— তাজউদ্দিনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উল্লেখ করেন মহিউদ্দিন।
অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলছিলেন, তাজউদ্দীন আহমদ যেভাবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব পর্যায়ে উঠে এসেছিলেন তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার পরিশীলিত মনোভাব, শিক্ষিত মনন ও ভবিষ্যৎ দূরদৃষ্টিই তাকে নেতা করে তুলেছিল।
আগামীকাল বুধবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: সনজীদা খাতুন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মফিদুল হক।

