স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার : জুবাইদা রহমান

ছবি: আগামীর সময়
স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
তার ভাষ্য, ‘দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার দেশের স্বাস্থ্য খাত। তবে সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।’
আজ মঙ্গলবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন কথা বলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে সাধারণ জনগণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।
‘আজকে আমরা এখানে একত্র হয়েছি কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তিবাসীর জন্য সাধ্যমতো সর্বাত্মক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার’— যোগ করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘অতিরিক্ত চাপের মুখে আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলো। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরুৎসাহিত ও অসমভাবে বঞ্চিত। মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকার প্রতিদিন লাখো মানুষের কাছে এক অসম লড়াই। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ সরাসরি জনগণ বহন করে। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।’
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী আরও যোগ করেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আর কোনো দিন কড়াইল-ভাসানটেক ও সাততলার জনগণ চিকিৎসাসেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। নবজাতক থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ সবাই যেন সুচিকিৎসা পান। অন্তঃসত্ত্বা মা-বোনরা যেন জটিল সমস্যার সমাধান এবং চিকিৎসা সহজে ও দ্রুত পান।’
‘এই এলাকায় মূলত তাদের বসবাস, যারা এই শহরের জীবনযাত্রা চলমান রেখেছে। পোশাকশিল্পকে করেছে উজ্জ্বল। তাদের অসাধারণ শ্রম প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে সচল রেখেছে। কিন্তু ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ এলাকাবাসী প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজে স্থানীয় ফার্মেসিতে। তারা যেকোনো মূল্যে সুস্থ হতে চায়। যেন অসুস্থার জন্য ছুটি নিতে না হয়, যা সত্যিই অভাবনীয়।’
‘আমাদের এ এলাকার মানুষের মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্র হয়ে বহু প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার’, উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর ডা. জুবাইদা রহমান আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে কথা বলেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঢাকা-১৭ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য (ডা. জুবাইদা রহমান), যিনি আজকে আপনাদের সামনে এসেছেন। এটা দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
তার ভাষ্য, ‘এই আসাটা জনগণের মধ্যে আশার আলো সৃষ্টি করবে। বুঝতে হবে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে একটা দায়বদ্ধতার রাজনীতির মেরূকরণ নতুনভাবে সৃষ্টি করতে চান।’
সবার জন্য দরকার সুস্বাস্থ্য, এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
‘এই মতবিনিময়, এটাকে রাজনৈতিক নতুন মেরূকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা দিচ্ছেন।’
‘বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আসবে— এমন আশা প্রকাশ করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের এই আমলে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে দ্রুত একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে। সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপে প্রমাণ করেছেন।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইতিহাস থেকে জানি, আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের সময়ে কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নতির ফলে খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ খাদ্যে অর্জন করেছিল স্বয়ংসম্পূর্ণতা। এখন আমরা চিকিৎসা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে যদি এ রকম দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা পরিবর্তন আনতে পারি, সেটাই হবে বড় সফলতা।’
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান জানান, ‘নতুন আইসিইউ ইউনিটে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর রোগীরা দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন।’



