মানসিক স্বাস্থ্যে ‘রেড অ্যালার্ট’, বিপাকে যুক্তরাজ্য

ফাইল ছবি
২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কিশোর-কিশোরী ভুগতে পারে মানসিক বা আচরণগত সমস্যায়। জুরিখ ইন্স্যুরেন্সের নতুন প্রতিবেদন বলছে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এরই মধ্যে সাধারণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এ বয়সী প্রায় ৫১ শতাংশ তরুণ-তরুণী ভুগছে উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা এডিএইচডির মতো সমস্যায়।
প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার বেড়ে পৌঁছাতে পারে ৬৪ শতাংশে, যা আরও বাড়াতে পারে তরুণদের বেকারত্ব সংকট।
মন্ত্রীরা সতর্ক করেছেন, যথাযথ উদ্যোগ না নিলে অনেক তরুণ দীর্ঘমেয়াদে ভাতানির্ভর জীবনে আটকে যেতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলছেন, সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বৃদ্ধি আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। এটি উপেক্ষা করলে একটি প্রজন্ম একা কষ্ট পাবে এবং তাদের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হবে আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ।
স্ট্রিটিংসহ বিভিন্ন দলের রাজনীতিকরা মানসিক রোগের অতিরিক্ত নির্ণয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক উইল শিল্ড বলছেন, ‘আমরা হয়তো স্বাভাবিক শৈশব বা কৈশোরের অভিজ্ঞতাকে অতিরিক্ত চিকিৎসার আওতায় নিয়ে যাচ্ছি— এমন ঝুঁকি আছে। তবে কেন তরুণরা নিজেদের এভাবে ব্যাখ্যা করছে, সেটিও ভাবতে হবে। বর্তমান সমাজে পরিস্থিতি অনেক কঠিন, তাই তারা এভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা বোঝার চেষ্টা করছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও বাড়ছে ব্রিটেনে। ২০২৮ সালের মধ্যে ১ কোটি ৫ লাখ মানুষ উদ্বেগে ভুগতে পারে, যা গত বছরের ৮৭ লাখ থেকে অনেক বেশি।
রেজলিউশন ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত বিশ্বের তুলনায় ব্রিটিশ তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়।
জুরিখ জানিয়েছে, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ার তুলনায় ব্রিটিশ তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ। এর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, একাডেমিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক পরিবর্তনের মতো কারণ দায়ী।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ লাখ ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে।
জুরিখ ইন্স্যুরেন্সের পিটার হ্যামিলটনের ভাষ্য, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রভাবিত করবে ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি উৎপাদনশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক গতিশীলতার ওপর সৃষ্টি করবে দীর্ঘমেয়াদি চাপ।




