যুক্তরাজ্যে খাবারের দাম ৫০ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা

সংগৃহীত ছবি
জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট শুরুর সময়ের তুলনায় আগামী নভেম্বর নাগাদ যুক্তরাজ্যে খাবারের দাম ৫০ শতাংশ বেশি হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে। জলবায়ু ও জ্বালানি ধাক্কার কারণে দেশটির জনগণের ওপর বাড়ছে আরও চাপ।
এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইসিআইইউ) গবেষণায় বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরের একটু বেশি সময়ে খাবারের দাম যে হারে বেড়েছে, তা আগের প্রায় দুই দশকের বৃদ্ধির সমান। অর্থাৎ খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির গতি প্রায় চারগুণ হয়েছে।
ফুড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আনা টেইলর বলেছেন, ‘সবচেয়ে কম আয়ের পরিবারগুলোই এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছে। খাবারের দাম এত দ্রুত এবং এত বেশি বাড়লে সবচেয়ে কম আয়ের পরিবারগুলোর আর কাটছাঁট করার জায়গা থাকে না, খাবারের প্লেট ছাড়া। তখন মানুষ খাবার বাদ দেয়, শিশুরা ক্ষুধার্ত থাকে এবং খাদ্যাভ্যাসজনিত অসুস্থতা বাড়ে৷ যার ফলে মা-বাবারা কাজ থেকে ছিটকে পড়েন এবং এই চাপ সামলানোর সামর্থ্য সবচেয়ে কম।’
গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালেও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট যুক্তরাজ্যের বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে থাকবে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে। এর আগে করোনা মহামারী ও ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে দাম বেড়েছিল।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পূর্বাভাস, সার, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে বছরের শেষ নাগাদ খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
ইসিআইইউ জানিয়েছে, পাস্তা, হিমায়িত সবজি, চকলেট ও ডিমের দাম পাঁচ বছর আগের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি। গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। আর অলিভ অয়েলের দাম দ্বিগুণের বেশি, ১১৩ শতাংশ বেড়েছে।
থিংকট্যাংকটি বলছে, এসব পণ্য তেল ও গ্যাসের অস্থির দাম, কৃত্রিম সারের খরচ এবং যুক্তরাজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আমদানি অঞ্চলে খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহের মতো জলবায়ুগত প্রভাবের কারণে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব চাপের কারণে ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরিবারপ্রতি খাবারের বিল গড়ে ৬০৫ পাউন্ড বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু–প্রভাবিত পাঁচটি পণ্য— মাখন, দুধ, গরুর মাংস, চকলেট ও কফি— খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের বড় অংশের জন্য দায়ী। এসব পণ্যের দাম অন্য খাদ্য ও পানীয় পণ্যের তুলনায় চারগুণের বেশি দ্রুত বেড়েছে।
ইসিআইইউর খাদ্য ও কৃষি বিশ্লেষক ক্রিস জাকারিনি বলেছেন, আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের যুদ্ধ তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে বাজারের বিল আরও বাড়াবে। বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও এ বছর শুরু হতে যাওয়া এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সাল হতে পারে রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। গত পাঁচ বছরে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ তিনটি ফসল হয়েছে।’
গড় মজুরির সঙ্গে সামঞ্জস্য করে হিসাব করলে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট শুরুর পর খাবারের দাম ১১ শতাংশ বেড়েছে। এর সঙ্গে জ্বালানি ও পানির বিলের চাপও যুক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, জলবায়ু স্থিতিশীল করা এবং খাদ্যব্যবস্থাকে ধাক্কা থেকে সুরক্ষিত করার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে খাবারের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কম আয়ের পরিবারগুলো।



