যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজজট

২০২৫ সালের জুনে ওমানের উত্তরাঞ্চলের মুসানদাম উপদ্বীপের খাসাব উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির পানিতে একটি নৌকা চলাচল করছিল। ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধই রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিরসনের আশা ম্লান হয়ে পড়েছে।
আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ও তেহরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর মাত্র কয়েকটি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী অতিক্রম করেছে। বুধবার মাত্র পাঁচটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল। এটি আগের দিন ছিল ১১টি। বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা সাতটিতে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা কেপ্লার।
অন্যদিকে লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে এখনও ৬০০টির বেশি জাহাজ আটকে রয়েছে। যার মধ্যে ৩২৫টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার।
কেপ্লারের ট্রেড রিস্ক বিশ্লেষক আনা সুবাসিচ এক বিশ্লেষণে বলেছেন, কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হলেও তা অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু ট্রাফিক খুবই সীমিত। নিয়ম মেনে চলা জাহাজ মালিকরা সতর্ক রয়েছেন। যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও দিনে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫টি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত মানছে না। চুক্তি অনুযায়ী প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল যাতায়াতের অনুমতি দিতে খুবই খারাপ ও অসন্মানজনক ভূমিকা পালন করছে। আমাদের যে চুক্তি ছিল, এটি তা নয়!’
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকেই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অথবা তার মিত্রের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।
আরাঘচি বলেছেন, বিশ্ব লেবাননের হত্যাযজ্ঞ দেখছে। বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। বিশ্ব দেখছে, তারা তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করবে কি না।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকের প্রধান সুলতান আহমেদ আল জাবের বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আসলে এখনো খোলা নয়। প্রবেশাধিকার সীমিত, নিয়ন্ত্রিত এবং শর্তসাপেক্ষ। এটি মুক্ত নৌ-চলাচল নয়, বরং এক ধরনের চাপ প্রয়োগ।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ভোরে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৩৯ ডলারে দাঁড়ায়, যা এর আগে বুধবার ৯৫ ডলারের নিচে নেমেছিল।
এদিকে, যুদ্ধের সমাধানের আশায় বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। শুক্রবার এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো ঊর্ধ্বমুখী সূচনা করে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি প্রায় ২ শতাংশ এবং হংকংয়ের হাং সেং সূচক বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ।
সূত্র: আল-জাজিরা



