ইরানি কর্মকর্তার প্রশ্ন
‘হরমুজ প্রণালির পুলিশ হতে চান ট্রাম্প, এটি কি আপনার কাজ?’

হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজ
হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌযান ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই প্রণালি।
গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই।
রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের ভূমিকা পালন করতে চাইলে সেখানেই ডুবিয়ে দেওয়া হবে মার্কিন জাহাজগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রেজাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালির পুলিশ হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটা কি সত্যিই আপনার কাজ? এটা কি যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী একটি সামরিক বাহিনীর কাজ?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা সতর্ক করে আরও বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি করা মার্কিন জাহাজগুলো ডুবে যাবে আমাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এই প্রণালি আর ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ–অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এই অবরোধকে অভিহিত করেছে জলদস্যুতার শামিল হিসেবে।
মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রস্থের হরমুজ প্রণালি ব্যবহৃত হয় বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশের রুট হিসেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে রেজাই বলেছেন, আমরা হাজার হাজার মার্কিন সেনা জিম্মি করব, আর প্রতিটি জিম্মির বিনিময়ে আদায় করব এক বিলিয়ন ডলার। চলমান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পক্ষেও তিনি নন বলে জানান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
রেজাই ইরানের উচ্চপদস্থ একজন সামরিক কর্মকর্তা। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সাবেক কমাণ্ডার–ইন–চিফ ছিলেন তিনি। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে অবসরে যান।
গত মাসে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি জানায়, রেজাই অবসর ভেঙে মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস



